স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ শেষ হয়ে গেলে আমরা অনেকেই দ্রুত একটি মাইক্রোএসডি কার্ড কিনে নিই। কিন্তু মেমোরি কার্ড লাগানোর পরও কি আপনার প্রিয় গেম বা অ্যাপগুলো ধীরগতিতে চলছে? অনেকেই মনে করেন মেমোরি কার্ডের গায়ে লেখা রিড-রাইট স্পিডই মেমোরি কার্ডের পারফরম্যান্সের একমাত্র মাপকাঠি। তবে সত্যিটা হলো, সাধারণ ছবি বা ভিডিও সেভ করা আর মেমোরি কার্ড থেকে সরাসরি অ্যাপ চালানোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। অ্যাপের পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ নির্ভর করে মেমোরি কার্ডের র্যান্ডম এক্সেস স্পিডের ওপর। এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো কীভাবে অ্যাপের জন্য সঠিক মেমোরি কার্ড নির্বাচন করবেন।
মেমোরি কার্ডের প্যাকেটে সাধারণত মেগাবাইট পার সেকেন্ড (MB/s) হিসেবে যে স্পিড লেখা থাকে, তা হলো সিক্যুয়েনশিয়াল স্পিড। মেমোরি কার্ডে বড় কোনো ফাইল, যেমন ৪কে ভিডিও বা এইচডি সিনেমা কপি করার সময় এই স্পিড কাজ করে। কিন্তু স্মার্টফোনের মেমোরি কার্ডে যখন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা হয়, তখন অ্যাপটি এক সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট ডেটা ফাইল দ্রুত পড়ার এবং লেখার কাজ করে।
বড় ফাইল ট্রান্সফারের গতি দিয়ে অ্যাপ চালনার আসল দক্ষতা বিচার করা সম্ভব নয়।
অ্যাপ চালানোর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় র্যান্ডম রিড ও রাইট। যদি মেমোরি কার্ডের র্যান্ডম স্পিড কম হয়, তবে অ্যাপ ওপেন হতে সময় নেবে এবং গেম খেলার সময় ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগ দেখা দেবে। তাই কেবল মেগাবাইট স্পিড দেখে কেনা বন্ধ করে অ্যাপ পারফরম্যান্স ক্লাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
এসডি অ্যাসোসিয়েশন মেমোরি কার্ডে অ্যাপ চালনার সক্ষমতা বোঝাতে 'App Performance Class' বা সংক্ষেপে A1 এবং A2 মানদণ্ড চালু করেছে। মেমোরি কার্ড কেনার সময় গায়ে এই লোগো দুটি ভালো করে দেখে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মেমোরি কার্ডকে দুইভাবে ব্যবহার করা যায়— পোর্টেবল স্টোরেজ এবং অ্যাডপ্টেবল (বা ইন্টারনাল) স্টোরেজ। আপনি যদি মাইক্রোএসডি কার্ডে অ্যাপ ইনস্টল করতে চান, তবে কার্ডটিকে অ্যাডপ্টেবল স্টোরেজ হিসেবে ফরমেট করতে হবে। এতে ফোনটি মেমোরি কার্ডকে নিজস্ব মেমোরির অংশ বানিয়ে নেয়।
তবে মনে রাখবেন, এই কাজের জন্য কম গতির কার্ড ব্যবহার করলে পুরো ফোনটিই স্লো হয়ে যেতে পারে। তাই অ্যাডপ্টেবল স্টোরেজ কনফিগার করার আগে অবশ্যই উচ্চমানের A1 বা A2 রেটিংযুক্ত মেমোরি কার্ড ব্যবহার নিশ্চিত করুন। এতে আপনার ফোনের মূল স্টোরেজের ওপর চাপ কমবে এবং অ্যাপগুলোও চমৎকার গতিতে কাজ করবে। সঠিক মেমোরি কার্ড নির্বাচন আপনার ডিভাইসের আয়ু ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আপনি কি কখনো মেমোরি কার্ড থেকে অ্যাপ চালাতে গিয়ে পারফরম্যান্স সমস্যায় পড়েছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!









